শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯

সুন্দরবনে তিন দিন

  • রিপোটারের নাম
  • ২০১৯-০১-২২ ০৯:২১:১৮
image

নোঙর তুলে এমভি কোকিলমনি যখন সুন্দরবনের দিকে রওনা দিল, তখন রূপসা নদীর পাড়ে আলোর ঝলকানি আর ঢাকের শব্দ। দুর্গাপূজার নবমী ছিল সেদিন। শহরের উৎসব দূর থেকে দেখতে দেখতেই চলে যাচ্ছিলাম সুন্দরবনের দিকে। পরবর্তী তিনটা দিন ফেসবুকের লাইক, কমেন্টের বুদ্​বুদের জগৎ থেকে দূরে।ধীরে ধীরে দিনের আলো মিলিয়ে গেল। চাঁদের আলো বাড়ছে চারপাশে। অক্টোবরের রাতটা ঠান্ডা হতে বেশ সময় নিচ্ছিল। তবে আমাদের গল্প জমতে সময় নিল না। লঞ্চের সামনের ডেকটায় পেছনের ইঞ্জিনের শব্দ তেমন আসে না বললেই চলে। তাই সেখানেই জমে উঠল আড্ডা। সারা দিনে ট্রেনের শব্দে যে কথাগুলো হারিয়ে গিয়েছিল, রূপসা নদীতে সেই রাতেই নির্জনতায় ফিরে এল তারা বারবার। লঞ্চ মোংলা থেমে আরও খানিকটা এগিয়ে গেল ঢাংমারি ফরেস্ট অফিসের দিকে। রাতের খাওয়ার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে সবাই চলে গেল নিজ নিজ কেবিনে। সে রাতে ঢাংমারি ফরেস্ট অফিসের কাছেই নোঙর করল আমাদের এমভি কোকিলমনি।বাঘের খোঁজেভোরে ঘুম থেকে কাউকে ডেকে তুলতে হলো না। নোঙর তোলার ঘটর ঘটর শব্দে সবার ঘুম ভেঙে গেল প্রায় একসঙ্গেই। তখনো ভালো করে দিনের আলো ফোটেনি। কিন্তু আমাদের ভীষণ তাড়া। আজ বিকেলের মধ্যে কটকা যাওয়ার পরিকল্পনা। এর মধ্যে হারবাড়িয়াতে একটু ঢুঁ মারার চিন্তাও আছে। আপাতত সেই চিন্তা না করে প্রবল জোয়ারে ভেসে আসা লতাগুল্ম পাশ কাটিয়ে লঞ্চের এগিয়ে যাওয়া দেখি। কী দারুণ কর্মহীন সকাল। রাস্তায় গাড়ির কান ফাটানো হর্নের বদলে বন্ধুর প্রিয় কণ্ঠস্বর। আহা জীবন!হারবাড়িয়া ইকোপার্কের কাঠের ঘাটে ওঠাটাও বেশ অ্যাডভেঞ্চারের ব্যাপার। লঞ্চ থেকে সারি ধরে পেছনে বেঁধে রাখা নৌকাগুলোতে উঠে হারবাড়িয়া খালের ভেতর দিয়ে এখানে এসেছি বাঘ দেখতে। শুনেছি এখানের বিস্তীর্ণ গলা সমান ঘাসের ভেতর দিয়ে বাঘ ঘুরে বেড়ায়। সঙ্গে থাকা বনপ্রহরী সেটাই বলল অনেক আগ্রহ নিয়ে। আমরাও কেমন একটা গা ছমছমে ভাব নিয়ে বাঘ খুঁজি। বাঘের দেখা পাই বা না পাই, খোঁজার মধ্যেও কেমন যেন একটা রোমাঞ্চ বোধ করছিলাম। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, লঞ্চে নিরাপদ দূরত্বে বসে বাঘ দেখাটাই অনেক ভালো। কী দরকার হঠাৎ করে সামনে আসা বাঘ দেখার। সেটা যে খুব একটা সুখকর হবে না, তা তো নিশ্চিত।সে যা–ই হোক, বনপ্রহরী রবিউল ভাইয়ের জন্য খানিকটা মন খারাপ হলো। বেচারা খুব করে চাইছিলেন আমাদের একটা বাঘ দেখাতে। সুন্দরবনের বনপ্রহরী ভাইয়েরা আসলেই এমন আন্তরিক। আত্মীয়স্বজন ফেলে মাসের পর মাস এমন জঙ্গলে পড়ে থাকেন বলেই হয়তো দুই দিনের জন্য আসা পর্যটকদের সহজেই আপন করে নেন।


এ জাতীয় আরো খবর