শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯

মংপুর রবীন্দ্রনাথ

  • রিপোটারের নাম
  • ২০১৯-০১-২২ ০৯:৫৮:৫১
image

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মংপুতে আছেন এক রবীন্দ্রনাথ। জীবনের একেবারে শেষবেলায় তিনি এখানে কয়েক দফা এসে বাস করে গেছেন। রেখে গেছেন এমন অমূল্য কিছু স্মারক, যার খোঁজ হয়তো রবীন্দ্র-অনুরাগীদেরও অনেকের অগোচর রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে মংপু গিয়ে ‘রবীন্দ্র ভবন’ নামের সংগ্রহশালাটিতে এমন অদৃষ্টপূর্ব কিছু সংগ্রহ আর তাদের অনাদর–অবহেলা দেখে বিস্মিত হয়েছিলাম। এরপর যথারীতি বিস্মৃতও হয়েছিলাম। সম্প্রতি মংপুর স্মৃতি ফিরে এল দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে। এক. এ বছর জুলাই মাসে জানা গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হেরিটেজ কমিশন ভবনটির সংস্কার করে যথাযথ সংরক্ষণ এবং একে রবীন্দ্র গবেষণার একটি কেন্দ্রে পরিণত করার সংকল্প ঘোষণা করেছেন। তবে চোরের দল সম্ভবত ওই সংকল্পটি আগেই করে ফেলেছিল। ফলে, দুই নম্বর তথ্য—দিনকয়েক আগে কাগজে দেখলাম মংপুর সংগ্রহশালা থেকে চুরি হয়ে গেছে রবীন্দ্রনাথের আঁকা আসল ছবি, ছবি আঁকার রং-তুলি-কালি, পাণ্ডুলিপি, তাঁর শখের হোমিওপ্যাথির সরঞ্জাম, দুর্লভ আলোকচিত্রসহ নানা কিছু।দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে, মৈত্রেয়ী দেবীর অতি-সুখপাঠ্য মংপুতে রবীন্দ্রনাথ পড়ার কারণেই সম্ভবত, মংপু দেখার আকর্ষণ রোধ করা গেল না। পাঠ্যবই সূত্রে আমাদের জানা আছে যে সিঙ্কোনাগাছের ছাল থেকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন পাওয়া যায়। ভারতে প্রথম কুইনাইন বড়ি তৈরির কারখানা স্থাপিত হয় মংপুতে ১৮৬৪ সালে, কারণ সিঙ্কোনাগাছ এ অঞ্চলেই বিশেষভাবে পাওয়া যায়। মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী মনমোহন সেন ছিলেন এখানে কর্মকর্তা এবং কারখানার প্রবেশপথের উল্টো দিকেই ছিল তাঁর বাংলো। রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে চারবার এ বাংলোতে এসে বাস করেছেন। ১৯৪০ সালে শেষবারের মতো জন্মদিন উপলক্ষে এখানে বসেই তিনি রচনা করেন ‘জন্মদিন’ নামের কবিতাটি এবং এটি কলকাতা রেডিওতে সরাসরি প্রচারের জন্য তিনি কালিম্পং থেকে টেলিফোনে কবিতাটি আবৃত্তিও করেন।

 


এ জাতীয় আরো খবর