সৌদি সফরে ৮৩টি উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

বিদেশ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় অতিথিদের দামী উপহার দেওয়া সৌদির রাজপরিবারের বহুদিনের ঐতিহ্য। ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল সৌদি সফরে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সৌদির তৎকালীন বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদের জন্য উপহার হিসাবে ১শ পাউন্ড মূল্যের একটি সুগন্ধি নিয়ে গিয়েছিলেন।

ওই উপহারের বদলে সৌদি বাদশাহ চার্চিলকে দিয়েছিলেন হীরার আংটি, মনি-মুক্তো বসানো তরবারি আর পোশাক। এতোগুলো উপহার পেয়ে রীতিমত লজ্জা পেয়েছিলেন চার্চিল। তাই দেশে ফিরেই সৌদি বাদশার জন্য একটি রোলস রয়েস গাড়ি পাঠিয়েছিলেন তিনি।

চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সৌদি সফরে গিয়েছিলেন তখন তাকেও বহু দামি উপহার সামগ্রী দিয়েছিলেন বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান।

মার্কিন পত্রিকা ডেইলি বিস্ট যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অধিকার আইনের সূত্র ধরে পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে সেই উপহারের তালিকা বের করেছে। এতে দেখা গেছে সৌদি রাজপরিবারের কাছ থেকে মোট ৮৩টি উপহার পেয়েছেন ট্রাম্প।

উপহারের তালিকায় রয়েছে চিতাবাঘের চামড়ার লাইনিং দেওয়া এবং সোনার নকশা করা ঐতিহ্যবাহী সৌদি আলখাল্লা, মণিমুক্তা খচিত বেশ কিছু তরবারি, ব্যাগ, জুতা, সুগন্ধি এবং দামি কিছু পেইন্টিং।

অ্যারাবিয়া ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলি শিহাবি বলেছেন, এসব উপহারকে খুব বেশি দামি বলা যাবেনা।
আগে উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসকরা বিদেশি অতিথিদের খুব দামি সব উপহার দিতেন… এখন সাধারণত ঐতিহ্যবাহী উপহার-সামগ্রী দেয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে খুব সহসা চিতাবাঘের লাইনিং দেওয়া ঐ আলখাল্লা পরতে পারবেন বা সৌদি পেইন্টিংগুলো তার ঘরে ঝোলাতে পারবেন সে সম্ভাবনা কম। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ সফরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এমন কোন উপহার গ্রহণ করতে পারবেনা যার দাম ৩৯০ ডলারের বেশি।

আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পাওয়া দামি উপহার হয় যাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে অথবা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদেরকে প্রস্তাব দেয়া হয় তারা চাইলে ঐ উপহার বাজারের দামে কিনে নিতে পারেন।

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সুচি ২০১২ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে কালো মুক্তার মালা উপহার দিয়েছিলেন। সেটি পরে ৯৭০ ডলারে কিনে নিয়েছিলেন ক্লিনটন।

বাদশাহ সালমানের কাছ থেকে উপহার পাওয়া চিতার চামড়ার আলখাল্লা বা মনি-মুক্তায় মোড়া তরবারিগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্প কিনে নেবেন কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরো সংবাদ